বোনাস অধ্যায় ১২
নিজের কিছু একটা?
সবচেয়ে বড় রিটার্ন যেখানে, মুক্তিও সেখানে।
অনেক মানুষ তাঁদের ভেতরের সুর না বাজিয়েই মারা যান।
অলিভার ওয়েন্ডেল হোমস
আপনার চেনাজানা যাঁরা সত্যিই সচ্ছল হয়েছেন, তাঁদের কথা একবার ভাবুন। তাঁদের কেউ কি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিয়ে সচ্ছল হয়েছেন? সম্ভবত একজনও না। প্রায় সবার গল্পে একটা জিনিস থাকে — নিজের একটা কিছু। দোকান, ওয়ার্কশপ, এজেন্সি, ছোট কারখানা, বাসার ভেতরের একটা সেলাইঘর।
একই টাকার দুই পাশ
৬.২১%আপনি আমানতকারী হিসেবে যা পান — সব তফসিলি ব্যাংকের গড়
১১.৮১%আপনার ওই টাকাই যিনি ধার নিচ্ছেন, তিনি যা দিচ্ছেন
বাংলাদেশ ব্যাংক, ভারিত গড় সুদহার, জুলাই ২০২৬।
কেউ ইচ্ছে করে লোকসান করার জন্য ১১.৮১ শতাংশ সুদে টাকা ধার নেয় না। অর্থাৎ যে ব্যবসাগুলো বছরের পর বছর ব্যাংকের টাকায় চলছে আর কিস্তি দিয়ে যাচ্ছে, তাদের পুঁজির উপর আয় এই হারের চেয়ে বেশি হতেই হবে। সংখ্যাটা কোনো প্রতিশ্রুতি নয় — এটা বলে, যে ব্যবসাগুলো টিকে আছে তাদের রিটার্ন কত হতে বাধ্য।
আপনার বেতন আসলে একধরনের এফডিআর
চাকরি করলে আপনি ইতিমধ্যেই একটা ব্যবসায় যুক্ত আছেন — শুধু ব্যবসাটা আপনার নয়। আয় থেকে কাঁচামাল, ভাড়া, বিদ্যুৎ, সুদ, কর মিটিয়ে যা থাকে সেটা মালিকের; আপনার বেতন ওই খরচগুলোরই একটা, চুক্তিতে লেখা, নির্দিষ্ট। অভিযোগ নয়, বিনিময় — নিচের সীমাটুকু নিশ্চিত করার বদলে উপরের সীমাটুকু ছেড়ে দেওয়া।
মূল্যস্ফীতি ৮.২৬% ধরে, ফিশার সূত্রে। সূত্র: বিবিএস, আগস্ট ২০২৬।
দেশটা আসলে ছোট ব্যবসার
৯৫.৪১%
দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটের এই অংশই কুটির ও অতিক্ষুদ্র। স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের ৮৭.৩৬% ব্যক্তি বা পরিবারের মালিকানায়। সূত্র: অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪।
বাংলাদেশে ব্যবসা মানে প্রযুক্তি স্টার্টআপ নয়, রপ্তানিমুখী কারখানাও নয় — একটা দোকান, একটা গাড়ি, একটা ওয়ার্কশপ, একটা খাবারের জায়গা। নিজের কিছু শুরু করা মানে দেশের স্বাভাবিক ধারা থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়, বরং সেই ধারায় ঢোকা।
একটা দোকানের দুই রকম হিসাব
ছোট ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি যে ভুলটা হয়, সেটা হিসাবেই — মালিক নিজের শ্রমের কোনো দাম ধরেন না।
উদাহরণের সংখ্যাগুলো কাল্পনিক; কাঠামোটা যেকোনো খুচরা ব্যবসায় একই। বইয়ে সমতার বিন্দু ও বিক্রি বাড়লে হিসাবটা কোথায় দাঁড়ায়, দুটোই বের করা আছে।
আর সৎ হিসাবের অন্য পাশটা
২৬.০৪%
ছোট ও মাঝারি উদ্যোগে দেওয়া ঋণের এই অংশ খেলাপি, মার্চ ২০২৬-এ। ডিসেম্বর ২০২৫-এ ছিল ২৪.০৩% — তিন মাসেই দুই পয়েন্ট বেড়েছে।
ব্যবসা একইসঙ্গে সবচেয়ে বেশি রিটার্নের পথ এবং সবচেয়ে বেশি ব্যর্থতার পথ। দুটো কথাই সত্যি। এই অধ্যায়টা বইয়ের একদম শেষে রাখা হয়েছে ইচ্ছে করেই — জরুরি তহবিল, উচ্চ সুদের ঋণ শোধ আর নিরাপদ ভিত্তি তৈরি না করে ব্যবসায় নামা মানে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটা সবার আগে নেওয়া।
- অধ্যায়ের প্রথম নিয়মটাই হলো — চাকরি ছাড়বেন না, চাকরি রেখেই শুরু করুন। নিয়মিত বেতনই সেই জিনিস যা আপনাকে প্রথম ভুলগুলো করার সুযোগ দেয়।
- ঝুঁকি কমানোর বাকি সাতটি নিয়ম, পুঁজি ও কাগজপত্রের তালিকা, আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের হিসাব — অধ্যায়ের ভেতরে।
নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগে টিকে থাকা যায়, এগোনো যায় না। দিনের শেষে যে পরিশ্রমটা আপনি করলেন, সেটা তখন আপনার নিজের ঘরেই জমা হয়।